বাঙালি জাতির উদ্ভব, বাংলা ভাষার ইতিহাস ও চর্যাপদ pdf
বাঙালি জাতির উদ্ভব, বাংলা ভাষার ইতিহাস ও চর্যাপদ (সম্পূর্ণ নোট)
বাঙালি জাতির উৎপত্তি, বাংলা ভাষার বিকাশ, সাহিত্য বিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থাবলি এবং প্রাচীন যুগের একমাত্র নিদর্শন চর্যাপদ সংক্রান্ত পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিমূলক গাইড। এটি বিসিএস, ব্যাংক, শিক্ষক নিবন্ধনসহ যেকোনো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এই লেকচারে আমি আলোচনা করেছি : বাঙালি জাতির উৎপত্তি, বাংলা ভাষার উদ্ভব, সাহিত্যের যুগ বিভাগ এবং চর্যাপদের পদকর্তাদের ইতিহাস, বিসিএস ও বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান ও সব শেষে মডেল টেস্ট।

বাঙালি জাতির উদ্ভব, বাংলা ভাষার ইতিহাস ও চর্যাপদ pdf

বাঙ্গালী জাতির উদ্ভব
ড. মুহম্মদ হান্নান তাঁর “বাঙালীর ইতিহাস” গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন যে, ধর্মীয় তথ্য অনুযায়ী- হযরত নূহ (আ) এর মহাপ্লাবনের পর বেঁচে যাওয়া চল্লিশ জোড়া নর-নারীকে বংশ বিস্তার এবং বিশ্বব্যাপী বসতি গড়ার লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হয়েছিল। নূহ (আ) এর পুত্র 'হাম' পিতার নির্দেশে এশীয় অঞ্চলে আসেন। হাম এর পুত্র হিন্দ এর নামানুসারে হিন্দুস্তান, সিন্দ এর নামানুসারে সিন্ধুর নামকরণ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। হিন্দের সন্তান 'বঙ্গ' ভারতের পূর্বাঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। বঙ্গ এর সন্তানরাই বাঙাল নামে পরিচিত।
বঙ্গ (ব্যক্তি) + আহাল (সন্তান) = বঙ্গাহাল > বাঙাল > বাঙালি
বাংলা ভাষার উদ্ভব
বাংলা ভাষা ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে, খ্রিস্টপূর্ব ৫,০০০ বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার অস্তিত্ব ছিল। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব ২৫০০ বছর পূর্বে ইন্দো-ইউরোপীয় মূল ভাষার দুই শাখা কেন্তম ও শতম শাখার ইন্দো এশীয় রূপ শতম শাখা থেকে প্রাচীন আর্য ভাষার উদ্ভব। ভারতীয় আর্য শাখার সৃষ্টি হয় প্রায় খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ অব্দে।
ভারতীয় আর্যভাষার তিনটি স্তর:
প্রাচীন ভারতীয় আর্যভাষা: খ্রিস্টপূর্ব ১২০০ থেকে খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ পর্যন্ত প্রচলিত ভাষা হচ্ছে- বৈদিক ও সংস্কৃত। আর্যদের ধর্মগ্রন্থ 'বেদ' এর ভাষা হচ্ছে-বৈদিক। খ্রিস্টপূর্ব সপ্তম শতকে বিখ্যাত বৈয়াকরণ ও পণ্ডিত পাণিনি বৈদিক ভাষার সংস্কার করে নির্দিষ্ট সূত্র প্রদান করেন। এটি সংস্কৃত নামে পরিচিত। আর্য ভাষায় সাধারণের জড়তাপূর্ণ উচ্চারণের ফলে তৎসম শব্দের পরিবর্তন সাধিত হয় এবং পালি ভাষার উদ্ভব ঘটে।
মধ্য ভারতীয় আর্যভাষা: খ্রিস্টপূর্ব ৬০০ অব্দ থেকে ১০০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত মধ্য ভারতীয় আর্য ভাষার স্তরগুলো হচ্ছে- পালি, প্রাকৃত ও অপভ্রংশ। প্রাকৃত ভাষা অঞ্চল ভেদে বিভক্ত হয়েছে যেমন- মাগধী, মহারাষ্ট্রী, অর্ধ-মাগধী ও সৌরসেনী।
নব্য ভারতীয় আর্যভাষা: খ্রিস্টীয় দশম শতক থেকে আধুনিক কাল। দশম থেকে চতুর্দশ শতক পর্যন্ত বাংলা ভাষার আদিস্তরের স্থিতিকাল। নব্য ভারতীয় আর্যভাষায় বিভক্ত শাখা হচ্ছে- বাংলা, হিন্দি, মৈথিলি, অসমিয়া, উড়িয়া, ভোজপুরিয়া, মারাঠি ইত্যাদি। প্রাকৃত ভাষার দুর্বল কাঠামো এবং ব্যাকরণবদ্ধ রূপের স্থিতি না থাকায় জনসাধারণের উচ্চারণে ও শৈথিল্য পরিলক্ষিত হয় এবং নানা অপভ্রংশের সৃষ্টি হয়। পূর্ব ভারতে প্রচলিত মাগধী প্রাকৃতজাত মাগধী অপভ্রংশ হতে খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে বাংলা ভাষা উৎপত্তি লাভ করে।
বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল নিয়ে মতভেদ:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: বাংলা ভাষার উৎপত্তি খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকে।
ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: বাংলা ভাষার উৎপত্তিকাল দশম শতক।
বিকল্প উৎপত্তির মতবাদ:
স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন ও ড. সুনীতি কুমারের মতে: মাগধী প্রাকৃতের বিকৃত রূপ মাগধী অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: গৌড়ীয় প্রাকৃতের অপভ্রংশ রূপ গৌড়ীয় অপভ্রংশ থেকে বাংলা ভাষার জন্ম।
বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থাবলি
বাংলা সাহিত্যের যুগ বিভাগ
চর্যাপদ থেকে বর্তমান কাল পর্যন্ত বাংলা সাহিত্যকে প্রধানত তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে:
১. প্রাচীন যুগ:
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: ৯৫০ খ্রি. – ১২০০ খ্রি.।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে: ৬৫০ খ্রি. – ১২০০ খ্রি.।
নিদর্শন: চর্যাপদ (ভাষা: সান্ধ্য বা আলো-আঁধারি)।
২. মধ্যযুগ: ১২০০ খ্রি. – ১৮০০ খ্রি. পর্যন্ত।
আদিস্তর: ১৪শ ও ১৫শ শতাব্দী। নিদর্শন: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন, রামায়ণ ও মহাভারত পাঁচালী, মনসামঙ্গল ইত্যাদি।
চৈতন্যদেবের নামানুসারে ভাগ:
চৈতন্য পূর্ববর্তী যুগ (১২০০-১৫০০ খ্রি.)
চৈতন্য যুগ (১৫০০-১৬০০ খ্রি.)
চৈতন্য পরবর্তী যুগ (১৬০১-১৭৬০ খ্রি.)
৩. আধুনিক যুগ: ১৮০১ খ্রি. থেকে বর্তমান পর্যন্ত। এই যুগে বাংলা গদ্য সাহিত্যের সূচনা ও বিকাশ ঘটে।-----
চর্যাপদ (সংক্ষিপ্ত পরিচিতি)
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন।
এটি মূলত কবিতা বা গানের সংকলন।
এটি বৌদ্ধ সহজিয়া ধর্মের সাধনতত্ত্ব বা সাধন সঙ্গীত।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন (এক নজরে)
বাংলা সাহিত্যের যুগকে ৩ ভাগে ভাগ করা যায়।
বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ মূলত ৬৫০-১২০০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।
বাংলা সাহিত্যের আধুনিক যুগ শুরু হয় ১৮০১ সালে।
চর্যাপদ আবিষ্কারের প্রেক্ষাপট
সর্বপ্রথম অস্তিত্ব: ১৮৮২ সালে রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্রের 'Sanskrit Buddhist Literature in Nepal' গ্রন্থে প্রথম চর্যাপদের অস্তিত্বের কথা জানা যায়।
আবিষ্কার: মহামহোপাধ্যায় ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ১৯০৭ সালে নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থশালা 'রয়েল লাইব্রেরি' থেকে 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়' নামক পুঁথিটি আবিষ্কার করেন।
একসাথে পাওয়া অন্যান্য গ্রন্থ: ১. সরহপাদের দোহা, ২. কৃষ্ণপাদের দোহা, ৩. ডাকার্ণব।
চর্যাপদ প্রকাশ
প্রকাশকাল: ১৯১৬ সালে (১৩২৩ বঙ্গাব্দ)।
সম্পাদক: হরপ্রসাদ শাস্ত্রী।
প্রকাশক: বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
নাম: 'হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা'।
চর্যাপদ নেপালে পাওয়ার কারণ
পাল আমলে চর্যাপদের বিকাশ ঘটলেও সেন আমলে হিন্দু ধর্ম ও ব্রাহ্মণ্য সংস্কার রাজধর্ম হওয়ায় বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যগণ দেশত্যাগ করে নেপালে আশ্রয় নেন। একারণেই বাংলার এই আদি নিদর্শন নেপালে পাওয়া যায়।
চর্যাপদের রচনাকাল ও বয়স
সাধারণভাবে এর রচনাকাল ধরা হয় ৬৫০-১২০০ খ্রি. (প্রায় ৫৫০ বছর)।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র মতে: ৬৬০-১২০০ খ্রি.। ২০২২ সাল অনুযায়ী এর বয়স প্রায় ১৩৭২ বছর।
ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে: ৯৫০-১২০০ খ্রি.। ২০২২ সাল অনুযায়ী এর বয়স প্রায় ১০৭২ বছর।
চর্যাপদের ভাষা
ধরন: চর্যাপদ সন্ধ্যা বা সান্ধ্য (আলো-আঁধারি) ভাষায় রচিত।
ভাষাতাত্ত্বিক বিশ্লেষণ: ১৯২৬ সালে ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় তাঁর 'The Origin and Development of the Bengali Language' (ODBL) গ্রন্থে প্রথম প্রমাণ করেন যে চর্যাপদ বাংলা ভাষায় রচিত।
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র মতে: এর ভাষা প্রাচীন বাংলা বা প্রাচীন বঙ্গকামরূপী।
পদকর্তা ও পদসংখ্যা
মোট পদসংখ্যা: ৫১টি (মতান্তরে ৫০টি)।
প্রাপ্ত পদ: উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
পদকর্তা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ'র মতে ২৩ জন, সুকুমার সেনের মতে ২৪ জন।
প্রধান পদকর্তাগণ:
কাহ্নপা: সর্বাধিক ১৩টি পদ রচনা করেন।
ভুসুকুপা: ৮টি পদ।
সরহপা: ৪টি পদ।
কুক্কুরীপা: ৩টি পদ।
লুইপা, শবরপা ও শান্তিপা: প্রত্যেকে ২টি করে পদ রচনা করেন।
চর্যাপদের কবিগণের পরিচয়
লুইপা: ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে তিনি বাংলাদেশের বাসিন্দা ছিলেন। তাকে চর্যাপদের আদি সিদ্ধাচার্য হিসেবে গণ্য করা হয়। তিনি প্রথম জীবনে ওড়িশার লেখক ছিলেন এবং মন্ত্রীর গুরু ছিলেন।
ঢেণ্ঢনপা: তিনি পেশায় একজন তাঁতি ছিলেন। তার ৩৩ নং পদে বাঙালি জীবনের দারিদ্র্যের করুণ চিত্র ফুটে উঠেছে। তার নামের অর্থ হলো এমন একজন ব্যক্তি যিনি ডুগডুগি বাজিয়ে ভিক্ষা করেন।
শবরপা: তিনি বাংলাদেশের অধিবাসী এবং পেশায় ব্যাধ (হরিণ শিকারী) ছিলেন। তার রচিত পদের মূল উপজীব্য ছিল শবর-শবরীর প্রেম কাহিনী।
বিরূপা: বীরূপার ৩ নং পদে 'শুঁড়িবাড়ি' বা মদ উৎপাদন ও বিক্রয়কেন্দ্রের চিত্র পাওয়া যায়।
কাহ্নপা: চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদ (১৩টি) তিনি রচনা করেছেন। তার পদে সমাজ জীবনের কথা সবচেয়ে বেশি ফুটে উঠেছে।
ভুসুকুপা: তিনি সৌরাষ্ট্রের রাজপুত্র ছিলেন এবং শেষ জীবনে নালন্দা বৌদ্ধ বিহারে ভিক্ষু হিসেবে অবস্থান করেন। তার পদে 'বঙ্গালদেশ' ও বাঙালির কথা উল্লেখ আছে।
কুক্কুরীপা: তিনি একজন ব্রাহ্মণ বংশীয় কবি ছিলেন এবং তাকে চর্যাপদের প্রাচীনতম মহিলা কবি বলে ধারণা করা হয়।
অন্যান্য কবিদের উল্লেখযোগ্য তথ্য:
ডোম্বীপা: তিনি ত্রিপুরা বা মগধের রাজা ছিলেন এবং তার পদে গঙ্গা ও যমুনা নদীর উল্লেখ পাওয়া যায়।
ভাদেপা: তিনি পেশায় চিত্রকর এবং কাহ্নপার শিষ্য ছিলেন।
শান্তিপা: তার পদের ভাষা প্রাচীন মৈথিলি এবং তিনি বিহারের বিক্রমশীলায় বাস করতেন।
এক কথায় উত্তর
১। বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন শতাব্দীতে? — সপ্তম শতকে।
২। বাংলা ভাষা কোন ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত? — ইন্দো-ইউরোপীয়।
৩। বাংলা ভাষার আনুমানিক বয়স কত? — চৌদ্দশত বছর বা এক হাজার বছরের অধিক।
৪। বাংলা ভাষার পূর্ব স্তরের নাম কী? — প্রাকৃত।
৫। সহোদর ভাষাগোষ্ঠী— বাংলা ও অসমিয়া।
৬। ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতে বাংলা ভাষার উৎপত্তি কোন প্রাকৃত স্তর থেকে? — গৌড়ীয় অপভ্রংশ।
৭। প্রাচীন যুগের একমাত্র সাহিত্যিক নিদর্শন কী? — চর্যাপদ।
৮। চর্যাপদের আদি কবি/বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম কবি কে? — শবরপা (শহীদুল্লাহর মতে), লুইপা (অধিকাংশের মতে)।
৯। চর্যাপদে সবচেয়ে বেশি পদ কে রচনা করেন? — কাহ্নপা।
১০। কতজন কবি চর্যাপদ রচনা করেছেন? — ২৪ জন।
১১। চর্যাপদ কতটি পদের সংকলন? — একান্নটি। তবে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ছেচল্লিশটি।
১২। চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের ভাষার নমুনা পরিলক্ষিত হয়? — পশ্চিম বাংলার প্রাচীন কথ্য ভাষার।
১৩। বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন? — সহজিয়া বৌদ্ধ।
১৪। চর্যাপদ কোথায় সংরক্ষিত ছিল? — নেপালের রাজদরবারের গ্রন্থাগারে।
১৫। চর্যাপদে কতটি প্রবাদবাক্য পাওয়া যায়? — ছয়টি।
১৬। চর্যাপদের ভাষাকে পণ্ডিতগণ কোন ধরনের ভাষা বলেছেন? — সান্ধ্য ভাষা বা আলো আধারি ভাষা।
১৭। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কবে সম্পাদিত আকারে চর্যাপদ প্রকাশ করেন? — ১৯১৬ সালে।
১৮। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী 'চর্যাপদ' যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তার নাম হল— হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা।
১৯। কোন সাহিত্যকর্মে সান্ধ্যভাষার প্রয়োগ আছে? — চর্যাপদ।
২০। বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে প্রথম গ্রন্থ কোনটি? — চর্যাপদ।
২১। কোন রাজবংশের আমলে চর্যাপদ রচনা শুরু হয়? — পাল বংশের আমলে।
২২। বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের রচনাকাল— সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতক।
২৩। হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কাকে চর্যার আদি কবি মনে করেন? — লুইপা।
২৪। চর্যাপদ প্রথম কোথা থেকে প্রকাশিত হয়? — বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষদ।
২৫। ড. শহীদুল্লাহর মতে, চর্যাপদের ভাষা— বঙ্গকামরুপী।
২৬। কোন পণ্ডিত চর্যাপদের পদগুলো টীকার মাধ্যমে ব্যাখ্যা করেন? — মুনিদত্ত।
২৭। চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত, এটি প্রথম প্রমাণ করেন কে? — ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়।
২৮। চর্যাপদ হলো মূলত— গানের সংকলন।
বিগত বছরের প্রশ্ন ও উত্তর
১. কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত? [৪৩তম বিসিএস]
ক. হিত্তিক ও তুখারিক
খ. তামিল ও দ্রাবিড়
গ. আর্য ও অনার্য
ঘ. মাগধী ও গৌড়ী
উত্তর: ক. হিত্তিক ও তুখারিক
২. 'রুখের তেগুলি কুমীরে খাই'-এর অর্থ কী? [৪৩তম বিসিএস]
ক. তেজি কুমিরকে রুখে দিই
খ. বৃক্ষের শাখায় পাকা তেঁতুল
গ. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
ঘ. ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হয়
উত্তর: গ. গাছের তেঁতুল কুমিরে খায়
৩. হরপ্রসাদ শাস্ত্রীর উপাধি কী? [৪৩তম বিসিএস]
ক. পন্ডিত
খ. বিদ্যাসাগর
গ. শাস্ত্রজ্ঞ
ঘ. মহামহোপাধ্যায়
উত্তর: ঘ. মহামহোপাধ্যায়
৪. 'চর্যাপদে'র প্রাপ্তিস্থান কোথায়? [৪৩তম বিসিএস]
ক. বাংলাদেশ
খ. নেপাল
গ. উড়িষ্যা
ঘ. ভুটান
উত্তর: খ. নেপাল
৫. চর্যাপদে কোন ধর্মমতের কথা আছে? [৪০তম বিসিএস]
ক. খ্রীষ্টধর্ম
খ. প্যাগনিজম
গ. জৈনধর্ম
ঘ. বৌদ্ধধর্ম
উত্তর: ঘ. বৌদ্ধধর্ম
৬. উল্লিখিতদের মধ্যে কে প্রাচীন যুগের কবি নন? [৩৮তম বিসিএস]
ক. কাহ্নপাদ
খ. লুইপাদ
গ. শান্তিপাদ
ঘ. রমনীপাদ
উত্তর: ঘ. রমনীপাদ
৭. 'সান্ধ্যভাষা' কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত? [৩৭তম বিসিএস]
ক. চর্যাপদ
খ. পদাবলি
গ. মঙ্গলকাব্য
ঘ. রোমান্সকাব্য
উত্তর: ক. চর্যাপদ
৮. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক গ্রন্থসমূহের মধ্যে কোনটি ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ লেখা? [৩৭তম বিসিএস]
ক. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
খ. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
গ. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
ঘ. বাংলা সাহিত্যের কথা
উত্তর: ঘ. বাংলা সাহিত্যের কথা
৯. 'চর্যাচর্যবিনিশ্চয়'-এর অর্থ কি? [৩৭তম বিসিএস]
ক. কোনটি চর্যাগান, আর কোনটি নয়
খ. কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
গ. কোনটি চরাচরের, আর কোনটি নয়
ঘ. কোনটি আচার্যের, আর কোনটি নয়
উত্তর: খ. কোনটি আচরণীয়, আর কোনটি নয়
১০. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ্ সম্পাদিত চর্যাপদ বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? [৩৭তম বিসিএস]
ক. Buddhist Mystic Songs
খ. চর্যাগীতিকা
গ. চর্যাগীতিকোষ
ঘ. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধ গান ও দোহা
উত্তর: ক. Buddhist Mystic Songs
১১. মুহম্মদ আবদুল হাই রচিত ধ্বনিবিজ্ঞান বিষয়ক গ্রন্থের নাম কী? [৩৭তম বিসিএস]
ক. বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
খ. আধুনিক বাংলা ধ্বনিবিজ্ঞান
গ. ধ্বনিবিজ্ঞানের কথা
ঘ. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
উত্তর: ঘ. ধ্বনিবিজ্ঞান ও বাংলা ধ্বনিতত্ত্ব
১২. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি? [৩৪তম বিসিএস]
ক. নিরঞ্জনের উষ্মা
খ. গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস
গ. দোহাকোষ
ঘ. ময়নামতির গান
উত্তর: গ. দোহাকোষ (চর্যাপদ অপশনে না থাকায় এটি উত্তর হিসেবে গণ্য হয়)
১৩. সবচেয়ে বেশি চর্যাপদ পাওয়া গেছে কোন কবির? [৩৫তম বিসিএস]
ক. লুইপা
খ. ভুসুকুপা
গ. শবরপা
ঘ. কাহ্নপা
উত্তর: ঘ. কাহ্নপা
১৪. বাংলা সাহিত্যের পঠন-পাঠনের সুবিধার জন্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে তিনটি যুগে ভাগ করা হয়েছে- বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগ। [৩৪তম বিসিএস]
ক. ৪৫০-৬৫০
খ. ৬৫০-৮৫০
গ. ৬৫০-১২০০
ঘ. ৬৫০-১২৫০
উত্তর: গ. ৬৫০-১২০০
১৫. 'চর্যাপদ' কত সালে আবিষ্কৃত হয়? [৩৪তম বিসিএস]
ক. ১৮০০ সালে
খ. ১৮৫৭ সালে
গ. ১৯০৭ সালে
ঘ. ১৯০৯ সালে
উত্তর: গ. ১৯০৭ সালে
১৬. চর্যাপদ কোন ছন্দে লেখা? [৩৩তম বিসিএস]
ক. অক্ষরবৃত্ত
খ. মাত্রাবৃত্ত
গ. স্বরবৃত্ত
ঘ. অমিত্রাক্ষর ছন্দ
উত্তর: খ. মাত্রাবৃত্ত
১৭. 'The Origin and Development of Bengali Language' গ্রন্থটি রচনা করেছেন- [৩৩তম বিসিএস]
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
গ. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ. স্যার জর্জ গ্রিয়ারসন
উত্তর: খ. ড. সুনীতি কুমার চট্টোপাধ্যায়
১৮. কোন কবি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছেন? [৩০তম বিসিএস]
ক. গোবিন্দ দাস
খ. কায়কোবাদ
গ. কাহ্নপা
ঘ. ভুসুকুপা
উত্তর: ঘ. ভুসুকুপা
১৯. বাংলা সাহিত্যের আদি কবি কে? অথবা, চর্যাপদের আদি কবি কে? [২৯তম বিসিএস]
ক. কাহ্নপা
খ. ঢেণ্ঢনপা
গ. লুইপা
ঘ. ভুসুকুপা
উত্তর: গ. লুইপা
২০. বাংলা কথ্য ভাষার আদি গ্রন্থ কোনটি? [২৯তম বিসিএস]
ক. প্রভু যিশুর বাণী
খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
গ. ফুলমণি ও করুণার বিবরণ
ঘ. মিশনারি জীবন
উত্তর: খ. কৃপার শাস্ত্রের অর্থভেদ
২১. চর্যাপদ আবিষ্কৃত হয় কোথা থেকে? [২৮তম বিসিএস]
ক. বাঁকুড়ার এক গৃহস্থের গোয়াল ঘর থেকে
খ. আরাকান রাজগ্রন্থাগার থেকে
গ. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
ঘ. সুদূর চীন দেশ থেকে
উত্তর: গ. নেপালের রাজগ্রন্থশালা থেকে
২২. চর্যাপদের বয়স আনুমানিক কত বছর? [২৮তম বিসিএস]
ক. ৮০০ বছর
খ. ১০০০ বছর
গ. ১১০০ বছর
ঘ. ১২০০ বছর
উত্তর: খ. ১০০০ বছর
২৩. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস বিষয়ক প্রথম উল্লেখযোগ্য গ্রন্থ কার রচনা? [২৭তম; ২৫তম ও ২২তম বিসিএস]
ক. দীনেশচন্দ্র সেন
খ. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
ঘ. মুহম্মদ এনামুল হক
উত্তর: ক. দীনেশচন্দ্র সেন
২৪. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস গ্রন্থের নাম- [২৬তম বিসিএস]
ক. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
খ. বাংলা সাহিত্যের কথা
গ. বাঙ্গালা সাহিত্যের ইতিহাস
ঘ. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
উত্তর: খ. বাংলা সাহিত্যের কথা
২৫. কোনটি মুহাম্মদ এনামুল হকের রচনা? [২৫তম বিসিএস]
ক. ভাষার ইতিবৃত্ত
খ. আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
গ. মনীষা-মঞ্জুষা
ঘ. বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
উত্তর: গ. মনীষা-মঞ্জুষা
২৫. কোনটি মুহাম্মদ এনামুল হকের রচনা?
ক. ভাষার ইতিবৃত্ত
খ. আধুনিক ভাষাতত্ত্ব
গ. মনীষা-মঞ্জুষা
ঘ. বাংলাদেশের আঞ্চলিক ভাষার অভিধান
উত্তর: গ. মনীষা-মঞ্জুষা
২৬. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক) কারা রচনা করেন?
ক. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও সৈয়দ হাসান আলী
খ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আবদুল হাই
গ. মুহম্মদ আবদুল হাই, আনিসুজ্জামান ও আনোয়ার পাশা
ঘ. মুহম্মদ আবদুল হাই ও সৈয়দ আলী আহসান
উত্তর: খ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ ও মুহম্মদ আবদুল হাই
২৭. বাংলা ভাষার প্রথম কাব্য সংকলন চর্যাপদের আবিষ্কারক—
ক. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
গ. ড. সুকুমার সেন
ঘ. রাজা রাজেন্দ্রলাল মিত্র
উত্তর: ক. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
২৮. বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে নিম্নোক্ত একটি ভাষা থেকে—
ক. সংস্কৃত
খ. পালি
গ. প্রাকৃত
ঘ. অপভ্রংশ
উত্তর: ঘ. অপভ্রংশ
২৯. বাংলা ভাষার আদি স্তরের স্থিতিকাল কোনটি?
ক. দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
খ. একাদশ থেকে পঞ্চদশ শতাব্দী
গ. দ্বাদশ থেকে ষোড়শ শতাব্দী
ঘ. ত্রয়োদশ থেকে সপ্তদশ শতাব্দী
উত্তর: ক. দশম থেকে চতুর্দশ শতাব্দী
৩০. ভারতীয় মৌলিক লিপি কোনটি?
ক. ব্রাহ্মী
খ. কুটিল
গ. খরোষ্ঠী
ঘ. নাগরী
উত্তর: ক. ব্রাহ্মী
৩১. ‘প্রাকৃত’ কথার অর্থ কোনটি?
ক. প্রকৃত
খ. যথার্থ
গ. স্বাভাবিক
ঘ. যা করা হয়েছে
উত্তর: গ. স্বাভাবিক
৩২. ‘একদা মরণ-সমুদ্রের বেলাভূমিতে দাঁড়াইয়া কোন এক আরবীয় সাধক বলিয়াছিলেন’—বাক্যাংশটি কোন রীতিতে লিখিত?
ক. চলিতরীতি
খ. সাধুরীতি
গ. মিশ্ররীতি
ঘ. বিদেশীরীতি
উত্তর: খ. সাধুরীতি
৩৩. মানুষের মুখে উচ্চারিত অর্থবোধক ও মনোভাব প্রকাশক ধ্বনি সমষ্টিকে বলে—
ক. বর্ণ
খ. শব্দ
গ. বাক্য
ঘ. ভাষা
উত্তর: ঘ. ভাষা
৩৪. মনের ভাবপ্রকাশের প্রধান মাধ্যম কোনটি?
ক. চিত্র
খ. ভাষা
গ. ইঙ্গিত
ঘ. আচরণ
উত্তর: খ. ভাষা
৩৫. উপভাষা (Dialect) কোনটি?
ক. সাহিত্যের ভাষা
খ. পাঠ্যপুস্তকের ভাষা
গ. লেখ্য ভাষা
ঘ. অঞ্চল বিশেষের মানুষের মুখের ভাষা
উত্তর: ঘ. অঞ্চল বিশেষের মানুষের মুখের ভাষা
৩৬. পৃথিবীতে বর্তমানে কতগুলো ভাষা প্রচলিত?
ক. ৩৫০০ প্রায়
খ. ৫০০০ প্রায়
গ. ১০০০ প্রায়
ঘ. ৬৭০০ প্রায়
উত্তর: ঘ. ৬৭০০ প্রায়
৩৭. বাংলা আদি অধিবাসীগণ কোন ভাষাভাষী ছিল?
ক. সংস্কৃত
খ. বাংলা
গ. অস্ট্রিক
ঘ. হিন্দি
উত্তর: গ. অস্ট্রিক
৩৮. ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কয়টি শাখা?
ক. একটা
খ. দুইটা
গ. তিনটা
ঘ. চারটা
উত্তর: গ. তিনটা
৩৯. বাংলা ভাষার উৎপত্তি হয়েছে যেখান থেকে—
ক. ইন্দো-ইউরোপীয়
খ. ইন্দো-দ্রাবিড়ীয়
গ. আর্য
ঘ. আর্য-ইউরোপীয়
উত্তর: ক. ইন্দো-ইউরোপীয়
৪০. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়-এর মতে, বাংলা ভাষার উৎপত্তি—
ক. মাগধী প্রাকৃত
খ. পালি প্রাকৃত
গ. শৌরসেনী প্রাকৃত
ঘ. শতম-ভাষা
উত্তর: ক. মাগধী প্রাকৃত
৪১. বাংলা লিপির গঠনকার্য কোন আমলে শুরু হয়?
ক. গুপ্ত আমলে
খ. পাল আমলে
গ. সেন আমলে
ঘ. পাল ও সেন আমলে
উত্তর: ঘ. পাল ও সেন আমলে
৪২. ‘বাংলা ভাষা’ ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষার কোন শাখা থেকে উৎপত্তি লাভ করে?
ক. কেন্তুম
খ. আর্য
গ. শতম
ঘ. সংস্কৃত
উত্তর: গ. শতম
৪৩. দাপ্তরিক ভাষা হিসেবে বাংলা ভাষার অবস্থান—
ক. সপ্তম
খ. চতুর্থ
গ. দশম
ঘ. প্রথম
উত্তর: খ. চতুর্থ
৪৪. কুটিল লিপি কোন জায়গার প্রচলিত রূপ?
ক. রাজস্থান থেকে গুজরাট
খ. উড়িষ্যা থেকে পূর্বাঞ্চল
গ. উড়িষ্যা থেকে পশ্চিমাঞ্চল
ঘ. গুজরাট থেকে মধ্যপ্রদেশ
উত্তর: খ. উড়িষ্যা থেকে পূর্বাঞ্চল
৪৫. বর্তমানে বাংলাদেশের কোথায় অশোকের লিপি রয়েছে?
ক. কুমিল্লার লালমাই পাহাড়
খ. নওগাঁর সোমপুর বিহারে
গ. বগুড়া মহাস্থানগড়ে
ঘ. কুমিল্লার শালবন বিহারে
উত্তর: গ. বগুড়া মহাস্থানগড়ে
৪৬. ভারতীয় লিপিমালার উৎপত্তি ঘটে কীভাবে?
ক. ভারতের চিত্রলিপিকে অবলম্বন করে
খ. ভারতের ভাস্কর্যকে অবলম্বন করে
গ. বাংলার চিত্রলিপিকে অবলম্বন করে
ঘ. বাংলার প্রত্নতত্ত্বকে অবলম্বন করে
উত্তর: ক. ভারতের চিত্রলিপিকে অবলম্বন করে
৪৭. বর্তমানে কোন লিপি খরোষ্ঠী লিপির পরিচয় বহন করেছে?
ক. সংস্কৃত লিপি
খ. উর্দু লিপি
গ. হিন্দি লিপি
ঘ. বাংলা লিপি
উত্তর: খ. উর্দু লিপি
৪৮. বাংলা লিপি স্থায়ী রূপ লাভ করে কখন?
ক. পাল আমলে
খ. গুপ্ত আমলে
গ. সেন আমলে
ঘ. পাঠান আমলে
উত্তর: গ. সেন আমলে
৪৯. এদের মধ্যে কে সবচেয়ে বেশি ভাষা জানতেন?
ক. বিদ্যাসাগর
খ. আলাওল
গ. বেগম রোকেয়া
ঘ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
উত্তর: ঘ. ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ
৫০. বাংলা ভাষার সাথে মিল খুঁজে পাওয়া যায় কোন ভাষার?
ক. সংস্কৃত ভাষার
খ. হিন্দি ভাষার
গ. ফারসি ভাষার
ঘ. মুন্ডারি ভাষার
উত্তর: ঘ. মুন্ডারি ভাষার
৫১. ব্রাহ্মীলিপির পূর্ববর্তী লিপি কোনটি?
ক. তাম্র লিপি
খ. খরোষ্ঠী লিপি
গ. কুটিল লিপি
ঘ. দেবনাগরী লিপি
উত্তর: খ. খরোষ্ঠী লিপি
৫২. সংস্কৃত ভাষা হলো—
ক. লেখ্য ভাষা
খ. ভারতের রাষ্ট্র ভাষা
গ. কথ্য ভাষা
ঘ. বৌদ্ধদের ভাষা
উত্তর: ক. লেখ্য ভাষা
৫৩. বাংলা ভাষায় সাধুরীতির আগমন ঘটে কোন ভাষা থেকে?
ক. সংস্কৃত ভাষা
খ. হিন্দি ভাষা
গ. আঞ্চলিক ভাষা
ঘ. উর্দু ভাষা
উত্তর: ক. সংস্কৃত ভাষা
৫৪. কোন বাক্যটি সাধু ভাষার?
ক. তারা চলিয়া গেল
খ. তাহারা চলে গেল
গ. তাহারা চলিয়া গেল
ঘ. তারা চলে গেল
উত্তর: গ. তাহারা চলিয়া গেল
৫৫. ভাষার কোন রীতির সর্বনাম ও ক্রিয়াপদ এক বিশেষ গঠন পদ্ধতি মেনে চলে?
ক. কথ্যরীতিতে
খ. আঞ্চলিকরীতিতে
গ. চলিতরীতিতে
ঘ. সাধুরীতিতে
উত্তর: গ. চলিতরীতিতে
৫৬. বাংলা ভাষার বয়স কত?
ক. ১০০০ বছর
খ. ২০০০ বছর
গ. ২৫০০ বছর
ঘ. ২৭০০ বছর
উত্তর: ক. ১০০০ বছর
৫৭. কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস?
ক. মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য
খ. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
গ. বাংলা গদ্যরীতির ইতিহাস
ঘ. বাংলা সাহিত্যে গদ্য
উত্তর: খ. বঙ্গভাষা ও সাহিত্য
৫৮. ‘বাংলা সাহিত্যের কথা’ গ্রন্থটি রচনা করেন—
ক. মুহম্মদ আবদুল হাই
খ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
গ. সৈয়দ আলী আহসান
ঘ. এনামুল হক
উত্তর: খ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
৫৯. ‘বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত’ কে রচনা করেন?
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. মুনীর চৌধুরী
গ. মুহম্মদ আবদুল হাই
ঘ. কোনটিই নয়
উত্তর: ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
৬০. ‘বাংলা সাহিত্যের রূপরেখা’ গ্রন্থটির রচয়িতা—
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. এনামুল হালদার
গ. গোপাল হালদার
ঘ. আবদুল কাদির
উত্তর: গ. গোপাল হালদার
৬১. কোন গ্রন্থটি বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস?
ক. মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য
খ. বাংলা গদ্যরীতির ইতিহাস
গ. বাংলা সাহিত্যে গদ্য
ঘ. লোক সাহিত্য
উত্তর: ক. মুসলিম মানস ও বাংলা সাহিত্য
৬২. ‘বাংলা সাহিত্যের পুরাবৃত্ত’ গ্রন্থটি রচনা করেন?
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. ড. দীনেশচন্দ্র সেন
গ. ড. সুকুমার সেন
ঘ. ড. ওয়াকিল আহমদ
উত্তর: ঘ. ড. ওয়াকিল আহমদ
৬৩. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের গ্রন্থ—
ক. বাংলা ভাষার ইতিবৃত্ত
খ. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত
গ. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস
ঘ. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
উত্তর: ঘ. বাংলা সাহিত্যের ইতিবৃত্ত (আধুনিক)
৬৪. বাংলা ভাষার মধ্যযুগ—
ক. ৯০১ থেকে ১২০০ খ্রিস্টাব্দ
খ. ১২০১ থেকে ১৩০৫ খ্রিস্টাব্দ
গ. ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
ঘ. ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ থেকে বর্তমান
উত্তর: গ. ১২০১ থেকে ১৮০০ খ্রিস্টাব্দ
৬৫. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসকে কয়টি যুগে ভাগ করেছেন?
ক. দুটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
উত্তর: খ. তিনটি
৬৬. ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলা সাহিত্যে মধ্যযুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করেছেন?
ক. দুটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
উত্তর: গ. চারটি
৬৭. ড. মুহম্মদ এনামুল হক মধ্যযুগকে কয়টি ভাগে ভাগ করেছেন?
ক. দুটি
খ. তিনটি
গ. চারটি
ঘ. পাঁচটি
উত্তর: খ. তিনটি
৬৮. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহর মতানুযায়ী মধ্যযুগের ভাগ দুটি কী কী?
ক. সুলতানী আমল ও মোগল আমল
খ. পাঠান আমল ও সুলতানী আমল
গ. পাঠান আমল ও মোগল আমল
ঘ. তুর্কি আমল ও মোগল আমল
উত্তর: গ. পাঠান আমল ও মোগল আমল
৬৯. রবীন্দ্রযুগ কোন সময়কে বলা হয়?
ক. ১৯১০–১৯৫০
খ. ১৯০১–১৯২১
গ. ১৯০১–১৯৪০
ঘ. ১৯০১–১৯৩০
উত্তর: গ. ১৯০১–১৯৪০
৭০. বাংলা সাহিত্যের ইতিহাস কত বছরের পুরানো বলে মনে করা হয়?
ক. এক হাজার
খ. দুই হাজার
গ. তিন হাজার
ঘ. চার হাজার
উত্তর: ক. এক হাজার
৭১. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী ‘চর্যাপদ’ যে গ্রন্থে প্রকাশ করেছিলেন তার নাম হলো—
ক. চর্যাপদাবলি
খ. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
গ. চর্যাচর্যবিনিশ্চয়
ঘ. চর্যাগীতিকা
উত্তর: খ. হাজার বছরের পুরাণ বাংলা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা
৭২. ‘চর্যাপদ’ কোন ধর্মাবলম্বীদের সাহিত্য?
ক. সনাতন হিন্দু
খ. সহজিয়া বৌদ্ধ
গ. জৈন
ঘ. হরিজন
উত্তর: খ. সহজিয়া বৌদ্ধ
৭৩. কোন সাহিত্যকর্মে সন্ধ্যাভাষার প্রয়োগ আছে?
ক. চর্যাপদ
খ. গীতগোবিন্দ
গ. পদাবলি
ঘ. চৈতন্যজীবনী
উত্তর: ক. চর্যাপদ
৭৪. প্রাপ্ত চর্যাপদের পদকর্তা কতজন?
ক. ১৯
খ. ২৩
গ. ২৫
ঘ. ২৭
উত্তর: খ. ২৩
৭৫. চর্যাপদের কোন পদটি খণ্ডিত আকারে পাওয়া যায়?
ক. ১০নং পদ
খ. ১৬নং পদ
গ. ১৮নং পদ
ঘ. ২৩নং পদ
উত্তর: ঘ. ২৩নং পদ
৭৬. শবরপা কে ছিলেন?
ক. লুইপা’র গুরু
খ. ১নং চর্যার রচয়িতা
গ. শবরীর প্রতি
ঘ. হস্তীবিশারদ
উত্তর: খ. ১নং চর্যার রচয়িতা
৭৭. চর্যাপদ যে বাংলা ভাষায় রচিত, এটি প্রথম কে প্রমাণ করেন?
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
খ. ড. সুকুমার সেন
গ. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
ঘ. ড. সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়
উত্তর: ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ
৭৮. ‘খনার বচন’ কী সংক্রান্ত?
ক. কৃষি
খ. ব্যবসা
গ. শিল্প
ঘ. রাজনীতি
উত্তর: ক. কৃষি
৭৯. বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন কোনটি? অথবা, বাংলা ভাষায় সবচেয়ে পুরোনো যে পুঁথির সন্ধান পাওয়া গেছে তার নাম কী?
ক. বৈষ্ণব পদাবলি
খ. চর্যাপদ
গ. পুঁথি সাহিত্য
ঘ. বাউল সংগীত
উত্তর: খ. চর্যাপদ
৮০. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী কবে সম্পাদিত আকারে চর্যাপদ প্রকাশ করেন?
ক. ১৯০৭ সালে
খ. ১৯০৯ সালে
গ. ১৯১৬ সালে
ঘ. ১৯২৩ সালে
উত্তর: গ. ১৯১৬ সালে
৮১. বৌদ্ধদের কোন সম্প্রদায়ের সাধকগণ চর্যাপদ রচনা করেন?
ক. মহাযানী
খ. সহজযানী
গ. হীনযানী
ঘ. বজ্রযানী
উত্তর: খ. সহজযানী
৮২. বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন পাওয়া যায় কোথায়?
ক. আসামে
খ. সোনারগাঁওয়ে
গ. পশ্চিমবঙ্গে
ঘ. নেপালে
উত্তর: ঘ. নেপালে
৮৩. ড. সুনীতিকুমারের মতে, চর্যাপদের ভাষায় কোন অঞ্চলের ভাষার নমুনা পরিলক্ষিত হয়?
ক. নেপালের কথ্য ভাষা
খ. পূর্ববাংলার কথ্য ভাষা
গ. পশ্চিম বাংলার প্রাচীন কথ্য ভাষা
ঘ. বুদ্ধের জীবনী
উত্তর: গ. পশ্চিম বাংলার প্রাচীন কথ্য ভাষা
৮৪. চর্যাপদের বেশির ভাগ পদ কত চরণে রচিত?
ক. আট
খ. চৌদ্দ
গ. বারো
ঘ. দশ
উত্তর: ঘ. দশ
৮৫. চর্যাপদের উল্লেখযোগ্য সংস্কৃত টীকাকার কে?
ক. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী
খ. মুনিদত্ত
গ. সুনীতিকুমার
ঘ. ড. শহীদুল্লাহ
উত্তর: খ. মুনিদত্ত
৮৬. চর্যাপদের কতটি প্রবাদ বাক্য পাওয়া যায়?
ক. ৪টি
খ. ৫টি
গ. ৬টি
ঘ. ৭টি
উত্তর: গ. ৬টি
৮৭. চর্যাপদের ধর্মমত সম্পর্কে প্রথম আলোচনা করেন কে? কত সালে?
ক. ড. সুনীতিকুমার, ১৯২৭
খ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ১৯২৭
গ. ড. হরপ্রসাদ শাস্ত্রী, ১৮২৭
ঘ. মুনিদত্ত, ১৯১৭
উত্তর: খ. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ, ১৯২৭
৮৮. চর্যাপদ কতটি পদের সংকলন?
ক. সাড়ে ছেচল্লিশ (প্রাপ্ত সংখ্যা)
খ. একান্ন (সুকুমার সেনের মতে)
গ. পঞ্চাশ (শহীদুল্লাহর মতে)
ঘ. ক, খ ও গ
উত্তর: ঘ. ক, খ ও গ
৮৯. চর্যাপদের ভাষায় কোন ভাষাটির প্রভাব দেখা যায় না?
ক. অসমিয়া
খ. উড়িয়া
গ. মৈথিলি
ঘ. কোল ভাষা
উত্তর: ঘ. কোল ভাষা